কম্পিউটারের সূচনা এবং কম্পিউটার যেভাবে কাজ করে।

কম্পিউটারের সূচনা এবং কম্পিউটার যেভাবে কাজ করে।


কম্পিউটারের সূচনাঃ 

এমন একটি সময় ছিল, যখন মানুষ ছিল প্রকৃতির কাছে খুব অসহায়। সেই সময় মানুষ শাকসবজি, পশু পাখি এবং জীবজন্তুর কাঁচা মাংস এবং বন-জঙ্গলের ফলমূল খেয়ে জীবন ধারণ করত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ শক্তির ব্যবহার সহ আরো অনেক কলাকৌশল শিখে ফেলে। পাথরে পাথর ঘষে কিভাবে আগুল জ্বালাতে হয় মানুষ সেই বিষয়টিও ভালোভাবে আয়ত্ত করে ফেলে। 

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজে আগুন ব্যবহার করার পাশাপাশি বড় ধরনের বিপদ মোকাবিলা করার জন্য আগুনই ছিল তাদের প্রধান হাতিয়ার। সভ্যতার চাকা ঘুরাতে আগুন রেখেছিল বিশাল ভূমিকা। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের ফলে পৃথিবীর সকল ক্ষেত্রে ঘটল আমূল পরিবর্তন। আবিষ্কার করা হলো কম্পিউটার। 

আর এখনকার দিনে কম্পিউটার ছাড়া আমরা অনেক অসহায়। কারণ, বর্তমান যুগ কম্পিউটারের যুগ অর্থাৎ ডিজিটাল যুগ। এখন কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে সকল ক্ষেত্রে। যেমনঃ শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনোদন এবং মহাকাশ গবেষণাসহ সকল ক্ষেত্রে।  

আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হলো কম্পিউটার। বর্তমানে এটি আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কম্পিউটার হলো বিশেষ এক ধরনের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, যার মাধ্যমে স্বল্প সময়ে এবং খুব দ্রুততার সাথে অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধান করা যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে ডাটা প্রসেস করা হয়ে থাকে।  এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ডাটা জমা করে রাখা যায়, সেই জমাকৃত ডাটা যেকোনো সময়ে উদ্ধার করা যায়। 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে কম্পিউটারের ব্যবহার। যোগাযোগ করার জন্য ডিজিটাল টেলিফোন, ভিডিও ও ছবি ধারণ করার জন্য ডিজিটাল ক্যামেরা, খাবার গরম করার জন্য ডিজিটাল ওভেন, সময় দেখার জন্য ডিজিটাল ঘড়ি, গাণিতিক হিসাব করার জন্য ক্যালকুলেটরসহ সকল ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। 


কম্পিউটারের আবিষ্কারঃ 

ইংরেজ গণিতবিদ 'চার্লস ব্যাবেজ' ১৮৩০ সালে সর্বপ্রথম কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। সেটি ছিল এনালগ কম্পিউটার। এরপরে, হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের 'হয়ার্ড একিন' একটি মেকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে আবিষ্কার করা হয় ডিজিটাল কম্পিউটার। 

ডিজিটাল কম্পিউটারের গতি মেকানিক্যাল কম্পিউটার থেকে প্রায় ২০০ গুণ বেশি ছিল। এবং সেটি ধীরে ধীরে উন্নতিকরনের ফসলই হচ্ছে আজকের এই ডিজিটাল কম্পিউটার। 'এডা লাভলেস' নামে একজন মেয়ে প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রাম রচনা করেছিলেন। 


কম্পিউটারের কাজ করার পদ্ধতিঃ 

একটি কম্পিউটার কাজ করে তার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর সমন্বয়ে। সফটওয়্যার হলো কতগুলো প্রোগ্রামের সমষ্টি। যা কম্পিউটারকে নির্দেশ করে কখন কি করতে হবে। হার্ডওয়্যার এর রয়েছে দুই ধরনের ডিভাইস। 

যেমনঃ ইনপুট ডিভাইস - মাউস, কিবোর্ড, মাইক্রোফোন, জয়স্টিক, স্ক্যানার, লাইট পেন ইত্যাদি, এবং আউটপুট ডিভাইস - প্লটার, প্রিন্টার, মনিটর, সাউন্ড কার্ড, স্পিকার, হেডফোন ইত্যাদি। 

এই ইনপুট ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে কম্পিউটার ডাটা গ্রহণ করে এবং সেই গ্রহণকৃত ডাটাকে CPU কর্তৃক প্রসেস করা হলে অউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ফলাফল প্রদান কার হয়। আর এভাবেই কম্পিউটার সরল থেকে জটিলতম সব ধরনের কাজ করে থাকে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post