কম্পিউটারের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে আলোচনা।

কম্পিউটারের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে আলোচনা।


সাধারণত, কাজের দিক দিয়ে কম্পিউটারকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ 

১। এনালগ কম্পিউটার এবং 

২। ডিজিটাল কম্পিউটার। 

এনালগ কম্পিউটারঃ 

এনালগ কম্পিউটার এমন এক ধরনের কম্পিউটার যেটি এনালগ ডাটাকে প্রসেস করে। ডাইনামিক সমস্যা সমাধানের কাজে এনালগ কম্পিউটার ব্যবহার করা হত। এনালগ কম্পিউটার কোনো নির্দেশনাকে এক্সিকিউট করেনা এবং এটি পরিমাপক পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে। 

যেমনঃ পাইপের ভেতরে তরল পদার্থ বা বাতাসের চাপ কম বেশি হওয়া, বিদ্যুতের তারের ভেতরে ভোল্টেজের ওঠানামা, বাতাসের প্রবাহ ও চাপ পরিবর্তিত হওয়া ইত্যাদি পরিমাপনের ভিত্তিতে এনালগ কম্পিউটার কাজ করে। কয়েকটি এনালগ কম্পিউটারের উদাহরণঃ অপারেশনাল এমপ্লিফায়ার, নমোগ্রাম, প্লেইনমিটার ইত্যাদি।  

ডিজিটাল কম্পিউটারঃ 

আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার হলো ডিজিটাল কম্পিউটার। ডিজিটাল কম্পিউটার বিভিন্ন ধরনের ডাটাকে প্রসেস করতে সাহায্য করে। এটি প্রাপ্ত নির্দেশনার দ্বারা প্রতীকী সংখ্যার মাধ্যমে কাজ করে। 

ডিজিটাল কম্পিউটারের রয়েছে অসংখ্য ইনপুট এবং অউটপুট ডিভাইস। এটিতে ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ইনপুট দেয়ার কয়েক সেকেন্ড এর ভিতরে অউটপুট পাওয়া যায়। কয়েকটি ডিজিটাল কম্পিউটারের উদাহরণঃ ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, স্মার্টফোন, ডেক্সটপ, ল্যাপটপ ইত্যাদি। 


কাজের ক্ষমতা এবং আকারের ভিত্তিতে কম্পিউটারকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ 

১।  সুপার কম্পিউটার। 

২। মেইনফ্রেম কম্পিউটার। 

৩। মিনি কম্পিউটার। 

৪। মাইক্রো কম্পিউটার। 

সুপার কম্পিউটারঃ 

পৃথিবীতে যত ধরনের কম্পিউটার আছে তার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন, শক্তিশালী এবং ব্যয়বহুল কম্পিউটার হলো সুপার কম্পিউটার। পারসোনাল কম্পিউটারের চেয়ে সুপার কম্পিউটারের গতি সাধারণত কয়েক হাজার গুন বেশি হয়ে থাকে। 

ব্যক্তিগতভাবে এসকল কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়না, কেবলমাত্র সরকারি বা খুব বড় ধরনের প্রতিষ্ঠানে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। 

মেইনফ্রেম কম্পিউটারঃ 

১৯৩০ সালে মেইনফ্রেম কম্পিউটার আবিষ্কার করা হয়েছিল। মেইনফ্রেম কম্পিউটার সাধারণত সুপার কম্পিউটারের চেয়ে কম শক্তিশালী হয়ে থাকে। 

ব্যাংক-বীমা, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, বড় বড় শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ও জটিল তথ্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের কাজে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

মিনি কম্পিউটারঃ 

মিনি কম্পিউটারকে সাধারণত মিড-রেঞ্জ কম্পিউটার বলা হয়ে থাকে। মেইনফ্রেম কম্পিউটার ও মিনি কম্পিউটারের মধ্যে কাজের ধরন ও প্রক্রিয়াগত দিক দিয়ে তেমন কোনো পার্থক্য না থাকলেও মিনি কম্পিউটারের দাম, কাজের গতি ও কাজের ক্ষমতা মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে তুলনামূলক কম।                           

মাইক্রো কম্পিউটারঃ 

Mers Kutt নামে একজন কানাডিয়ান লোক মাইক্রো কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজে সচরাচর যে কম্পিউটারগুলো ব্যবহার করছি এগুলোই হলো মাইক্রো কম্পিউটার। মাইক্রো কম্পিউটার ছোট আকারের হয়ে থাকে। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ব্যক্তিগত প্রয়োজন, বিনোদনসহ সকল ধরনের কাজে মাইক্রো কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post