শ্রমিক সংঘের উদ্দেশ্য এবং কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা।

শ্রমিক সংঘের উদ্দেশ্য এবং কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা।

এই আর্টিকেল এ আমরা শ্রমিক সংঘের বিভিন্ন উদ্দেশ্য এবং কার্যাবলি সম্পর্কে জানব। 

শ্রমিক সংঘের উদ্দেশ্যঃ 

শ্রম ও ব্যবস্থাপনার উভয়পক্ষের মাঝে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করাই হলো শ্রমিক সংঘের মূল উদ্দেশ্য। শ্রমিকরা যেহেতু কোনো যন্ত্র নয় তাই মানবীয় সম্পর্ক মতবাদ অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই এ সংঘের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। 

শ্রমিক সংঘের আরও অনেক উদ্দেশ্য রয়েছে। এগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলোঃ 

১। কাজের স্বীকৃতিঃ শ্রমিকদের যেন কাজ করার জন্য স্বীকৃতি প্রদান করা হয় সেই উদ্দেশ্যে শ্রমিক সংঘ কাজ করে থাকে। যা তাদের প্রেষণা কে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। 

২। স্বার্থ সংরক্ষণঃ শ্রমিকদের কল্যাণ সাধন এবং স্বার্থ সংরক্ষণ করাই শ্রমিকদের অন্যতম একটি গুরুত্তপুর্ণ উদ্দেশ্য। 

৩। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণঃ শ্রমিকদের তাদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা বিধান করা শ্রমিকদের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। 

৪। পেশাজীবী মর্যাদা বৃদ্ধিকরণঃ কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের পেশার মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করাও শ্রমিক সংঘের অন্যতম উদ্দেশ্য। 

৫। স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা পরিবর্তনঃ  ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা পরিবর্তন করা শ্রমিক সংঘের অন্যতম উদ্দেশ্য। 

৬। উপযুক্ত মজুরি আদায়ঃ শ্রমিক ব্যবস্থাপনার কাছ থেকে উপযুক্ত মজুরি আদায় করাও শ্রমিক সংঘের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। এতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়। 

৭। অনুকূল শ্রমিক আইন প্রণয়নঃ শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলার একমাত্র স্বীকৃত সংগঠন হলো শ্রমিক সংঘ। শ্রমিকদের অনুকূলে আইন প্রণয়নে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে প্ররোচিত করাই শ্রমিক সংঘের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। 

৮। অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনাঃ ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই শ্রমিক সংঘের মূল উদ্দেশ্য। এতে প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিক উভয়ের মর্যাদা বেড়ে যায়। 

৯। যৌথ দরকষাকষি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণঃ একমাত্র শ্রমিক সংঘই শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবস্থাপনার সাথে যৌথ দরকষাকষি প্রক্রিয়ার অংশগ্রহণ করে। এতে শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণ বহুলাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। 

১০। শিল্প বিরোধ নিরসনঃ সর্বোপরি শিল্প বিরোধ নিরসন করাই শ্রমিক সংঘের একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। 


শ্রমিক সংঘের কার্যাবলি সম্পর্কে ধারণাঃ 

শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং কল্যাণমূলক কাজের জন্য শ্রমিক সংঘ গঠিত এবং পরিচালিত হয়ে থাকে। যা তাদের আর্থিক সুযোগসুবিধা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। 

শ্রমিক সংঘের কার্যাবলিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। এগুলোর নিম্নরূপঃ 

১। সংগ্রামমূলক কার্যাবলি। 

২। সৌভ্রাতিত্বমূলক কার্যাবলি এবং 

৩। রাজনৈতিক কার্যাবলি। 

সংগ্রামমূলক কার্যাবলিঃ 

শ্রমিক সংঘ মালিক বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে শ্রমিক-কর্মীদের ন্যায্য দাবিদাওয়া ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অনেক সময় বিভিন্ন সংগ্রামমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। যেমনঃ যৌথ দরকষাকষি, উপযুক্ত কার্যপরিবেশ সৃষ্টি, শ্রমিকদের বিরোধী। 

সৌভ্রাতিত্বমূলক কার্যাবলিঃ 

প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ও বাইরে শ্রমিক কর্মীদের কল্যাণের জন্য শ্রমিক সংঘ বিভিন্ন রকমের সৌভ্রাতিত্বমূলক কার্যাবলি সম্পাদন করে। যেমনঃ বিমার বন্দোবস্ত, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ইত্যাদি। 

রাজনৈতিক কার্যাবলিঃ 

শ্রমিক সংঘ বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কার্যাবলিও পরিচালনা করে থাকে। যেমনঃ শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগসুবিধা আদায়ের জন্য সরকারের নিকট আবেদন করার জোর প্রচেষ্টা চালানো, শ্রমিকদের স্বার্থ পরিপন্থী আইনকানুন বাতিলের জন্য সংগ্রাম করা ইত্যাদি। 

Post a Comment

Previous Post Next Post