কম্পিউটারের সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা।

কম্পিউটারের সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা।


এই আর্টিকেল এ আমরা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং এদের প্রকারভেদ সম্পর্কে জানব। 

হার্ডওয়্যারঃ 

কম্পিউটারের যত ধরনের ফিজিক্যাল যন্ত্রাংশ রয়েছে সেগুলোই হলো কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার। অর্থাৎ, কম্পিউটারের সকল ফিজিক্যাল যন্ত্রাংশ, যা শক্ত এবং দৃশ্যমান তাকেই বলে হার্ডওয়্যার। 

যেমনঃ টাইপ করার যন্ত্রটিকে বলা হয় কিবোর্ড, লেজওয়ালা ইঁদুরের মত দেখতে ছোট একটি ডিভাইসকে বলা হয় মাউস, প্রিন্ট করার জন্য ব্যবহৃত প্রিন্টার, বক্সের মত গঠনকে বলা হয় সিস্টেম ইউনিট এগুলো সবগুলোই হলো হার্ডওয়্যার। 

সফটওয়্যারঃ 

শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার দিয়ে কম্পিউটার কোনো কাজ সম্পাদন করতে পারেনা। তার কাজে সহায়তা প্রদান করার জন্য কতগুলো নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। একগুচ্ছ নির্দেশনাকে বলা হয় প্রোগ্রাম।  

আর অনেকগুলো প্রোগ্রামকে একত্র করে তৈরি করা হয় সফটওয়্যার। অর্থাৎ, কম্পিউটারের সকল লজিক্যাল নির্দেশনা যা কোমল এবং অদৃশ্যমান তাকেই বলে সফটওয়্যার। 


সফটওয়্যারকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ 

১। অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। 

২। কম্পাইলার সফটওয়্যার এবং 

৩। অপারেটিং সিস্টেম। 


অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারঃ 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানাবিধ কাজকর্ম এবং বিনোদন করার ক্ষেত্রে আমরা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকি। যেমনঃ ওয়েব ডিজাইন করা, গ্রাফিক্স ডিজাইন করা,  বিল তৈরি করা, অডিও-ভিডিও শোনা্, একাউন্টিং এর হিসাব রাখা ইত্যাদি। 

অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারকে আবার  দুইভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ 

১। স্ট্যান্ডার্ড সফটওয়ার এবং  

২। কাস্টমাইজ সফটওয়্যার। 

স্ট্যান্ডার্ড সফটওয়্যারঃ 

বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড সফটওয়্যার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কয়েকটি স্ট্যান্ডার্ড সফটওয়্যার এর উদারহরণঃ ভিডিও এডিটিং করার জন্য Adobe Premiere Pro, কার্টুন ও এনিমেশন তৈরি করার জন্য Macromedia Flash, কোডিং করার জন্য Visual Studio Code,  লেখালেখি করার জন্য Microsoft Word, হিসাবনিকাশের জন্য Microsoft Excel, ডাটা এন্ট্রি এবং এনালাইসিস করা জন্য Microsoft Excess ইত্যাদি। 

কাস্টমাইজ সফটওয়্যারঃ 

ব্যবহারকারীর চাহিদার সাথে মিল রেখে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা যে সকল সফটওয়্যার তৈরি করে থাকেন সেগুলোই হলো কাস্টমাইজ সফটওয়্যার। 


কম্পাইলার সফটওয়্যারঃ 

যে সকল সফটওয়্যার ব্যবহার করে হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ কে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ এ রূপান্তর করা হয় তাকে কম্পাইলার সফটওয়্যার বলে। কারণ, কম্পিউটার মানুষের মত বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি ভাষা বোঝেনা। 

কম্পিউটার শুধুমাত্র মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ বোঝে। আর এই কারণেই কম্পাইলার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কম্পাইলার দোভাষীয় হিসেবে কাজ করে। যেমনঃ Java ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম কে Java কম্পাইলার মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ এ রূপান্তর করে। 


অপারেটিং সিস্টেমঃ 

অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কম্পিউটার পুরোপুরি অচল। কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে তোলার জন্য তাই অপারেটিং সিস্টেম এর প্রয়োজন হয়। কারণ, কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এককভাবে কোনো কাজ সম্পাদন করতে পারেনা। 

হার্ডওয়্যার কে দিয়ে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের কাজগুলো করিয়ে নেয়ার বেপারে অপারেটিং সিস্টেম সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করে থাকে। 

1 Comments

  1. ভালো লাগলো পড়ে। সত্যিই আপনার পোস্ট গুলো পড়ার মতো ভাই। ধন্যবাদ

    ReplyDelete
Previous Post Next Post