ব্যবস্থাপনা কাকে বলে এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা।

ব্যবস্থাপনা কাকে বলে এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা।

এই আর্টিকেল এ আমরা জানব ব্যবস্থাপনা কি এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার কি কি উদ্দেশ্য রয়েছে।

ব্যবস্থাপনাঃ 

ব্যবস্থাপনা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে  'Management' . এটি একাধিক অর্থবোধক একটি প্রায়োগিক শব্দ। কেউ কেউ Management শব্দটি Latin শব্দ মতান্তরে ইতালিয় শব্দ 'Maneggiare' থেকে এসেছে বলে মনে করেন। 

আবার অনেকের মতে, প্রাচীন ইংরেজি 'Menage' এবং ফরাসি 'Menager' শব্দের সমন্বিত রূপই হচ্ছে Management. আবার অনেকেই Management শব্দটি ভেঙে তিন শব্দের একটি বাক্য গঠন করেছেন - Manage + Men + T ( Tactfully ) । অর্থাৎ মানুষকে কৌশলে পরিচালনা করাই হলো ব্যবস্থাপনা। 

ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দক্ষতার সাথে অর্জনের নিমিত্তে সংগঠনের উপায়-উপকরণাদি ও কার্যাবলির পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদির মাঝে সমন্বয়সাধন করে থাকে।  

সবশেষে বলা যায়, ব্যবস্থাপনা হলো প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া, যার মধ্যে পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং যে ক্ষেত্রে মানবীয় ও বস্তুগত উপাদান ব্যবহার করা হয়। 


আধুনিক ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যাবলিঃ 

প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের একটা লক্ষ্য থাকে। আর সে লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হয়েই তো তারা গঠন করে পরিবার, ব্যবসায়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংগঠন। অর্থাৎ কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই গঠিত হয় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যবস্থাপনার ভূমিকা সর্বাধিক। 

আধুনিক ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো মুখ্য উদ্দেশ্য আর অপরটি হলো গৌণ উদ্দেশ্য। 

আধুনিক ব্যবস্থাপনার মুখ্য উদ্দেশ্যঃ 

এরূপ উদ্দেশ্য একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, যা অর্জিত না হলে সেটি টিকে থাকতে পারেনা। মুখ্য উদ্দেশ্যগুলোর নিম্নরূপঃ 

১। মালিকের কল্যাণঃ যিনি বা যারা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী তার বা তাদের সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধিত হয়, এমন কাজগুলোই ব্যবস্থাপনা করে থাকে। 

২। কর্মীদের কল্যাণঃ কর্মীরা ভাল থাকলেই অধিক উৎপাদন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সুনাম অর্জন সম্ভব হয়। তাই কর্মীদের কল্যাণের মধ্য দিয়ে ব্যবস্থাপনা নিজের কল্যাণ করতে চায়। 

৩। মুনাফা অর্জনঃ প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানেরই অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। প্রধানত এ উদ্দেশ্যটি বাস্তবায়িত করার জন্যই অন্যান্য কার্য গৃহীত হয় ও পরিচালিত হয়। 

৪। অস্তিত্ব রক্ষাঃ প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলে মুনাফা আসবেই। এ চিন্তাধারা হতে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার নানা কৌশল অবলম্বন করে। 

আধুনিক ব্যবস্থাপনার গৌণ উদ্দেশ্যঃ 

মুনাফা অর্জন একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং আনুসাঙ্গিক কিছু উদ্দেশ্য অর্জনে একে সচেষ্ট হতে হয়। গৌণ উদ্দেশ্যগুলোর নিম্নরূপঃ 

১। সম্পর্ক উন্নয়নঃ প্রতিষ্ঠানের মানবীয় উপাদানের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি ব্যবস্থাপনার অন্যতম কাজ। 

২। উপকরণাদির উন্নয়নঃ উপকরণাদির উন্নয়নের সাথে প্রতিষ্ঠানিক মান উন্নত হয়। তাই ব্যবস্থাপনা উপকরণসমূহের উন্নয়নে সচেষ্ট থাকে। 

৩। উপকরণাদির সবোত্তম ব্যবহারঃ কার্যসম্পাদনে সম্পৃক্ত উপকরণগুলোর কিভাবে সর্বত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় ব্যবস্থাপনা তা নিয়ে সচেষ্ট থাকে। 

৪। কর্মী পরিচালনাঃ কর্মীর সঠিক পরিচালনার মাধ্যমে দক্ষতার সাথে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনার কাজ। 

৫। সামাজিক দায়িত্ব পালনঃ কেবল নিজের উন্নতি করলেই হবে না, বরং সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করে ব্যবস্থাপনা টিকে থাকে। 

৬। নীতিমালা প্রণয়নঃ সঠিক নীতিমালা প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে। তাই ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন করে। 

৭। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিঃ উপকরণসমূহের পরিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বাধিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা ব্যবস্থাপনার কাজ। 

৮। উৎপাদনের মান উন্নয়নঃ কেবল পণ্যদ্রব্য উৎপাদন করলেই হবে না, যেই পণ্যগুলো উৎপাদন করা হচ্ছে সেগুলোর মান কিভাবে বাড়ানো যায় সে উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপনা কাজ করে। 

৯। উদ্ভাবনঃ ভোক্তার চাহিদা ও রুচি নিয়মিত পরিবর্তশীল। তাই ভোক্তার চাহিদা ও প্রতিযোগিতা মোকবিলার লক্ষ্যে নিয়মিত গবেষণা ও উদ্ভাবনে নিয়জিত থকা ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য। 

১০। সঠিক কাজের পরিবেশ সৃষ্টিঃ সঠিক, সুন্দর ও সহায়ক কার্যপরিবেশ সৃষ্টি করে প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য অর্জন করা ব্যবস্থাপনার অন্যতম লক্ষ্য। 

১১। বাজার সম্প্রসারণঃ নিজের পণ্যের বাজার উত্তরোত্তর সম্প্রসারণ করা ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য। 

পরিশেষে বলা যায়, বিভিন্ন উপায়-উপকরনের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সমাজের বিভিন্ন পক্ষের প্রতি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজের সর্বোচ্চ কল্যাণসাধনই আধুনিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম উদ্দেশ্য। 

Post a Comment

Previous Post Next Post