একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের যেসকল উদ্দেশ্য রয়েছে।

একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের যেসকল উদ্দেশ্য রয়েছে।

মুনাফা তথা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই ব্যবসায়ী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। তাই মুনাফা অর্জনই ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য। 

ব্যবসায়ের বাইরেও সমাজের গুরুত্তপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক, মানবিক ও জাতীয় উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ব্যবসায়ী প্রচেষ্টা চালায়। 

বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যগুলোকে মূলত দুই ভাগ্যে ভাগ করা যায়। যেমনঃ 

১। প্রত্যক্ষ উদ্দেশ্য এবং 

২। পরোক্ষ উদ্দেশ্য। 

প্রত্যক্ষ উদ্দেশ্যকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য এবং অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য। পরোক্ষ উদ্দেশ্যকেও দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যেমনঃ সামাজিক ও মানবীয় উদ্দেশ্য এবং রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্য। 

উপরোক্ত উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ 


ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য

১। আত্মকর্মসংস্থানঃ কারারির নিজের উদ্যেগ ও পরিশ্রমের ফলে কারবার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। এতে তার নিজের কর্মের ব্যবস্থা হয়। 

২। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নঃ চাকরিজীবীদের তুলনায় ব্যবসায়ীগণ অধিক পরিমাণ আয় করে, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে। 

অধিক আয়ের ফলে উন্নত জীবনযাপনে তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। অধিক পরিশ্রমের মাধ্যমে বেশি আয়ের ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। 

৩। সামাজিক প্রতিষ্ঠাঃ ব্যবসায়ের মাধ্যমে যে প্রচুর পরিমাণ ধনসম্পদ অর্জিত হয় তাতে কারবারির সামাজিক মান মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। সে সমাজে গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 

৪। সম্পদ অর্জনঃ কারবারই কর্মকান্ডে নিয়জিত থেকে ব্যবসায়ী প্রচুর পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে পারে। 

মূলত যেকোনো ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়ে লাভ করবে বলেই সে ব্যবসা করতে নামে। তার উদ্দেশ্য থাকে প্রচুর সম্পদ অর্জনের। 


অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য

ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত আয়-উন্নতি ছাড়াও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসা পরিচালিত হয়। এর মধ্যে যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো হলোঃ 

১। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারঃ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাও ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য। 

দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কাজে লাগানোর জন্য ব্যবসায়ী উদ্দ্যেগ গ্রহণ করে। আমাদের দেশে কৃষিনির্ভর ও প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যেগ এর উদাহরণ। 

২। মুনাফা অর্জনঃ ব্যবসায় গঠনের পিছনে ব্যবসায়ীর মুখ্য উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। এজন্যই সে ঝুঁকি গ্রহণ করে। এরূপ উদ্দেশ্য না থাকলে তা ব্যবসা হিসেবে গণ্য হবে না। 

সন্তানের জন্য কাপড় সেলাই ব্যবসায় নয়। কিন্তু কাপড় সেলাই ও বিক্রয়পূর্বক মুনাফা অর্জন করতে চাইলে তা ব্যবসায়। 

৩। জনশক্তির সদ্ব্যবহারঃ ব্যবসায় সবসময় জনশক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে। এজন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত জনশক্তির উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। 

ব্যবসায় সম্প্রসারণ বা পুনস্থাপন করে অধিক জনশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য উদ্দ্যেগ নেয়া হয়। এভাবে দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠে। 

৪। উন্নত প্রযুক্তি ও পদ্ধতির ব্যবহারঃ উৎপাদনের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য উন্নত প্রযুক্তি সংগ্রহ ও ব্যবহার করাও ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য। এজন্য ব্যবসায় নতুন নতুন প্রযুক্তির উন্নয়নকে উৎসাহিত করে। 

কার্যক্ষেত্রে প্রযুক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি পদ্ধতিগত উন্নয়ন ঘটিয়ে কম খরচে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে উদ্দ্যেগী হয়। 

৫। পুঁজির সদ্ব্যবহারঃ পুঁজির সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ধৃত সৃষ্টিও ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য। একজন ব্যবসায়ী নিজস্ব অর্থ ছাড়াও প্রয়োজনে ঋণ করে ব্যবসায় গড়ে তোলে। 

এরূপ পুঁজির সার্থক ব্যবহারের মাধ্যমে যাতে অন্যের পাওনা পরিশোধ করা ও নিজস্ব আয় উপার্জন বৃদ্ধি পায় ব্যবসায় সেজন্য সবসময়ই সচেষ্ট থাকে। 

৬। উদ্ভাবন ও উন্নয়নঃ নতুন মান ও ডিজাইনের পণ্য উদ্ভাবনও ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য। অন্যথায় প্রতিযোগিতার বাজারে এগোনো যায়না। দোয়াত-কলম ও কালির যুগ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। 

প্রত্যহ নতুন মান ও ডিজাইনের কলম বাজরে আসছে। পোশাকের ডিজাইনের পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। নতুন পণ্য বাজারে এনে চমক সৃষ্টিতে ব্যবসায়ীরা অনন্য। 


সামাজিক ও মানবীয় উদ্দেশ্য

ব্যবসায় সমাজের একটু গুরুত্তপূর্ন প্রতিষ্ঠান। সমাজের বিভিন্ন পক্ষ যেমনঃ মালিক, শ্রমিক-কর্মী, ক্রেতা বা ভোক্তাসহ সবাই এর অন্তর্ভূক্ত। তাই ব্যবসায়কে এদের কল্যাণার্থে সামাজিক ও মানবীয় উদ্দেশ্য অর্জনে সচেষ্ট হয়। এগুলোর নিম্নরূপঃ 

১। ন্যায্যমূল্যে পণ্য ও সেবা সরবরাহঃ ন্যায্যমূল্যে এবং ভোক্তা সাধারণের ক্রয় সামর্থের মধ্যে পণ্য ও সেবা সরবরাহ করাও ব্যবসায়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। 

এজন্য বিভিন্ন ধরন, মান, আকার ও পরিমাণের পণ্য বাজারে ছাড়া হয়। যাতে সকল ধরনের ক্রেতা বা ভোক্তা তা সংগ্রহ করতে পারে। 

২। চাহিদামাফিক পণ্য ও সেবা সরবরাহঃ মানুষের চাহিদামাফিক উত্তম পণ্য ও সেবা সরবরাহ করা ব্যবসায়ের উল্লেখযোগ্য সামাজিক উদ্দেশ্য। 

যখন, এখানে, যেভাবে ক্রেতাসাধারণ পণ্য ও সেবার প্রত্যাশা করে ব্যবসায় সেভাবেই তা সরবরাহের ব্যবস্থা করে। এভাবেই সমাজের জনগণ তাদের অভাব পূরণে ব্যবসায়কে সবসময় কাছে পায়। 

৩। বেকার সমস্যার সমাধানঃ নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করাও ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য। ব্যবসায় সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও ব্যবসায় অনন্য। 

একটা দেশে ব্যবসায়খাতে যত লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় অন্য কোনো খাতে তা কখনই সম্ভব নয়। 

৪। সম্পর্কের উন্নয়নঃ সমাজের বিভিন্ন পক্ষের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে কার্যকর সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাও ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য। 

উত্তম শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ক্রেতা বা ভোক্তা, সরবরাহকারীসহ বিভিন্ন পক্ষের সাথে ব্যবসায় সম্পর্ক গড়ে তোলে । আন্তজার্তিক সম্পর্ক সৃষ্টিতেও ব্যবসায় অনন্য। 


রাষ্ট্রীয় / জাতীয় উদ্দেশ্য

বর্তমান বৃহৎ আয়তন ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়কে বিভিন্ন জাতীয় উদ্দেশ্য সাধনেও প্রয়াস চালাতে হয়। ব্যবসায় পরিচালনার পিছনে যে সকল জাতীয় উদ্দেশ্য বিদ্যমান থাকে তার নিম্নরূপঃ 

১। ব্যবসায় কর্মকান্ডের মাধ্যমে জাতীয় আয় ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা। 

২। জাতীয় সম্পদের সদ্দ্যবহারের  মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা। 

৩। ব্যবসায় কার্যকলাপ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করা। 

৪। সরকারকে বিভিন্ন কর ও রাজস্ব প্রদান করে সরকারের অর্থনৈতিক সামর্থকে মজবুত রাখা।  

2 Comments

  1. ধন্যবাদ ভাই । আপনার এই পোস্ট টি পড়ে অনেক নতুন কিছু জানতে পারলাম শিখতে পারলাম। ধন্যবাদ ভাই এইরকম ভাবে পোস্ট টি দেওয়ার জন্য

    ReplyDelete
    Replies
    1. তোমাকেও অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আমাদের সাথে থাকার জন্য। আমাদের ওয়েবসাইট সম্পর্কে যদি তোমার কোনো ধরনের মতামত থাকে তাহলে সেটি জানাতে ভুলবেনা। ধন্যবাদ!

      Delete
Previous Post Next Post