প্রিন্টার কি এবং বিভিন্ন প্রকার প্রিন্টারের বর্ণনা।

প্রিন্টার কি এবং বিভিন্ন প্রকার প্রিন্টারের বর্ণনা।

প্রিন্টারঃ 

ইংরেজি Print শব্দের অর্থ হলো ছাপানো বা মুদ্রণ করা। সুতরাং, প্রিন্টার হচ্ছে এমন এক ধরনের আউটপুট ডিভাইস, যার সাহায্যে কম্পিউটার মনিটরে যে সকল টেক্সট ও গ্রাফিক্স প্রদর্শিত হয়, তাদের তাৎক্ষনিকভাবে কাগজে প্রিন্ট করা যায়। প্রিন্টার হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত একটি আউটপুট ডিভাইস। 

প্রিন্টার এক প্রকারের ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল ডিভাইস। এটি ইলেক্ট্রনিক সার্কিট এবং মেকানিক্যাল এসেম্বলি এ দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। ইলেক্ট্রনিক সার্কিটটি মেকানিক্যাল এসেম্বলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। দৈনন্দিন কাজে বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টার ব্যবহার করা হয়। নিচে কয়েকটি প্রিন্টার সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া হলোঃ 

সিরিয়াল প্রিন্টার বা ক্যারেক্টার প্রিন্টারঃ 

ক্যারেক্টার প্রিন্টারের ক্ষেত্রে প্রতিবারে একটি করে ক্যারেক্টার প্রিন্ট হয়, অর্থাৎ একটি ক্যারেক্টার প্রিন্ট হওয়ার পর পরবর্তী ক্যারেক্টার প্রিন্ট হয়। ক্যারেক্টার প্রিন্টার সিরিয়াল প্রিন্টার নমেও পরিচিত। 

ডেইজি হুইল প্রিন্টার এবং ডট-মেট্রিক্স প্রিন্টার হচ্ছে ক্যারেক্টার প্রিন্টারের উদাহরণ। ক্যারেক্টার প্রিন্টারের স্পিডকে সিপিএস বলা হয়। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ড প্রিন্টারটি যতগুলি ক্যারেক্টার প্রিন্ট করবে, তাই হবে ক্যারেক্টার প্রিন্টারের সিপিএস। 

প্যারালাল প্রিন্টার বা লাইন প্রিন্টারঃ 

লাইন প্রিন্টারের ক্ষেত্রে প্রতিবারে একটি করে লাইনের অনেকগুলো ক্যারেক্টার একসাথে প্রিন্ট হয়। অর্থাৎ একটি পূর্ণাজ্ঞ লাইনের সমস্ত ক্যারেক্টার একসাথে প্রিন্ট হয়। ড্রাম প্রিন্টার এবং চেইন প্রিন্টার হচ্ছে লাইন প্রিন্টারের উদাহরণ। 

লাইন প্রিন্টারের স্পিড ক্যারেক্টার প্রিন্টারের স্পিডের চেয়ে অনেক বেশি হয়। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে প্রিন্টারটি যতোগুলো প্রিন্ট করবে, তাই হবে লাইন প্রিন্টারের এলপিএম। সাধারণত প্রতি লাইনে ১৩২ টি ক্যারেক্টার থাকে। অনুভূমিক দিক বরাবর প্রতি ইঞ্চিতে ১০ টি ক্যারেক্টার এবং উল্লম্ব বরাবর প্রতি ইঞ্চিতে ৬ হতে 8 টি লাইন থাকে। 

এটি প্রতি মিনিতে ১০ হতে ১০০০ টি লাইন প্রিন্ট করতে পারে। বহুল পরিমাণে তথ্য প্রিন্ট করতে লাইন প্রিন্টার ব্যবহার করা হয়। লাইন প্রিন্টারকে প্যারালাল প্রিন্টারও বলা হয়ে থাকে। 

ড্রাফট প্রিন্টারঃ 

ড্রাফট কোয়ালিটি প্রিন্টারের প্রিন্ট ফন্ট বা ক্যারেক্টারগুলো কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাছাকাছি ডট নিয়ে গঠিত হয়। ডট-মেট্রিক্স হছে ড্রাফট প্রিন্টারের উদাহরণ। 

ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারঃ 

যে প্রিন্টারে ছাপানোর কাজে প্রিন্টার হেডের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাকে ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার বলে। এতে কালির জন্য রিবন বা ফিতা ব্যবহৃত হয়। ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারে প্রিন্টার হেডটি রিবনের সাথে বাহ্যিক সংস্পর্শে আসে। 

অর্থাৎ প্রিন্টার হেডে সংযুক্ত পিন অথবা ফন্টগুলো সারসরি রিবনের ফিতাতে আঘাত করে থাকে। ডট মেট্রিক্স প্রিন্টার, ডেইজি হুইল প্রিন্টার, ড্রাম প্রিন্টার এবং চেইন প্রিন্টার ইত্যাদি সবই ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার। 

নন ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারঃ 

যে প্রিন্টারে ছাপার কাজ করার জন্য হেডের পরিবর্তে লেজার রশ্মি বা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, তাকে নন ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার বলে। এতে কালির জন্য টোনার বা কারট্রিজ ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে প্রিন্টহেড কাগজকে স্পর্শ করে না। 

তাপ, আলো, তড়িৎশক্তি ইত্যাদি দ্বারা লেখা ফোটানো হয়। এ ধরনের প্রিন্টারে প্রিন্টহেড কাগজকে স্পর্শ না করায়, ছাপানোর কার্যাবলি অত্যান্ত দ্রুত সম্পাদিত হয়। ফলে এতে শব্দ কম হয় এবং এদের ছাপানোর মান খুবই ভালো ও রক্ষণবেক্ষণ খরচও কম। লেজার প্রিন্টার, ইঙ্কজেক্ট প্রিন্টার এবং ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিন্টার ইত্যাদি সবই নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার। 

লেটার কোয়ালিটি প্রিন্টারঃ 

এলকিউপি প্রিন্টারে ক্যারেক্টারগুলো টাইপরাইটার মেশিনের অক্ষরগুলোর মতোই প্রিন্ট হয়। ফলে অক্ষরগুলো পড়তে বেশ সহজ হয়। 

অফিসের কাজে এলকিউপি প্রিন্টার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ডেইলি হুইল প্রিন্টার হচ্ছে এলকিউপি প্রিন্টারের উদাহরণ। 

লেজার প্রিন্টারঃ 

Laser শব্দের পুর্ণ অর্থ হচ্ছে Light Amplification By Stimulated Emission Of Radiation. লেজার প্রিন্টারের মূলনীতি অফিস কপির মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রথমে পৃষ্ঠার একটি প্রতিবিম্ব মেশিনের ফটো পরিবাহী ড্রামের উপর তৈরি হয়। পরে পাউডার ইঙ্ক বা টোনার অর্থাৎ গুড়ো কালি প্রতিবিম্বের উপর প্রয়োগ করা হয়। 

এ অবস্থায় ড্রাম হতে কাগজের পাতায় প্রতিবিম্বটি স্থিতি বৈদ্যুতিক উপায়ে স্থান্তরিত হয়। সর্বশেষে কাগজের উপর কালিযুক্ত প্রতিবিম্বটিকে তাপের মাধ্যমে ফিউজ করা হয়। একটি ঘুর্ণায়মান আয়ন লেজার বীমটিকে ফট পরিবাহী ড্রাম বরাবর ছুটাছুটি করতে সাহায্য করে। 

র‍্যাসটার স্ক্যান প্রক্রিয়ার সিআরটি পর্দাতে যেভাবে প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, ঠিক সেভাবে লেজার বীমটিকে অন/অফ করার মাধ্যমে সামনের-পিছনের দিকে ছুটাছুটি করিয়ে ড্রামের উপর প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়। ড্রামের উপর উৎপন্নকৃত প্রতিবিম্বটিকে কালিজযুক্ত করে কাগজের উপর স্থান্তরিত করার পর ড্রামটিকে পরবর্তী পৃষ্ঠার জন্য পরিষ্কার রাখা হয়। 

ইঙ্ক জেট প্রিন্টারঃ 

যে সমস্ত প্রিন্টার High Speed Ink Drops এর মাধ্যমে সরাসরি কাগজে বিভিন্ন ধরনের অক্ষর প্রিন্ট করা হয়, সেগুলোকে InkJet প্রিন্টার বলে। প্রতিটি Ink Drops এর ডায়ামিটার 0.06 মিলিমিটার এবং দুটি Drops এর মধ্যবর্তী দূরত্ব 0.15 মিলিমিটার হয়ে থাকে। 

সাধারণত এ ধরনের প্রিন্টারের সাহায্যে কোয়ালিটি প্রিন্টিং এর জন্য প্রতি ক্যারেক্টারের Drop এর সাহায্যে 103 এবং প্রতি সেকেন্ডে 105 Drop Relae করে ১০০ টি অক্ষর প্রিন্ট করা সম্ভব। 

ইঙ্কজেট প্রিন্টারের ক্ষেত্রে কতগুলো সূক্ষ্ম সূচিমুখ থেকে বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত কালি বেরিয়ে এসে কাগজের দিকে ছুটে যায়। একটি তড়িৎক্ষেত্র এই চার্জযুক্ত কালির সূক্ষ্ম কণাগুলোকে ঠিক মতো সাজিয়ে দিয়ে কাগজের উপর কোনো বর্ণকে ফুটিয়ে তোলে। 

থার্মাল প্রিন্টারঃ 

থার্মাল প্রিন্টারের হেডটি কতগুলো উত্তপ্ত সূচ নিয়ে গঠিত। এখানে বিশেষ ধরনের তাপ স্পর্শকাতর কাগজ ব্যবহার করা হয়। ডট-মেট্রিক্স প্যাটার্ন অনুসরণ করে কাগজের উপর ক্যারেক্টারগুলো প্রিন্ট হয়ে থাকে। 

যখন উত্তপ্ত সুচ তাপ স্পর্শকাতর কাগজের উপর আঘাত করে, তখন কাগজের উপর কালো ডট উৎপন্ন হয়। এভাবে অনেকগুলো ডটের সমন্বয়ে একটি ক্যারেক্টার উৎপন্ন হয়। 

থার্মাল প্রিন্টারে বিশেষ ধরনের তাপ স্পর্শকাতর কাগজ ব্যবহৃত হয় বলে এটি ব্যয়বহূল। এটি দ্বারা ডট-মেট্রিক্স প্রিন্টারের মতো মাল্টিপল কপি প্রিন্ট করানো যায় না। তবে থার্মাল প্রিন্টার দ্বারা কোনো কিছু প্রিন্ট করানো সময় এটি ডট-মেট্রিক্সের মতো শব্দ উৎপন্ন করেনা। 

Post a Comment

Previous Post Next Post