Windows ও Unix অপারেটিং সিস্টেম কি এবং এদের বৈশিষ্ট্য।

Windows ও Unix অপারেটিং সিস্টেম কি এবং এদের বৈশিষ্ট্য।

Windows অপারেটিং সিস্টেমঃ 

Windows হলো একটি চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম যেটি মাইক্রোসফট কর্পোরেশন কর্তৃক ডেভেলপ করা হয়েছিল। এ সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রাফিক্স বেসড সিস্টেমসহ আরও অনেক কাজ সম্পন্ন করা যায়। 

মাইক্রোসফট কর্পোরেশন ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর Windows নামে এক নতুন অপারেটিং সিস্টেম এর ঘোষণা দেয়। তারপর Windows এর প্রথম ভার্শন Windows 1.0 প্রথম বাজারে আনা হয় ১৯৮৫ সালে। এটিই প্রথম গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস অর্থাৎ GUI ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম। 

এরপরে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন প্রায় ২ বছর পরে ১৯৮৭ সালের ৯ই ডিসেম্বর Windows অপারেটিং সিস্টেম এর দ্বিতীয় ভার্শন MS-Windows 2.0 বাজারজাত করে। ১৯৯০ সালের মে মাসের ২২ তারিখে আরও অনেক গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসসহ Windows এর উন্নত ভার্শন MS-Windows 3.0 বাজারে আসে। 

তারপর আরও অনেক Windows এর ভার্শন বাজারে আসতে থাকে। ১৯৯৫ সালের আগস্ট মাসে বাজারজাত করা হয় বহুল ব্যবহৃত MS Windows 95 । নেটওয়ার্ক সুবিধাসহ MS Windows NT এর অনেক ভার্শন কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য বাজারজাত করা হয়। 

১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে MS Windows NT এর 4.0 ভার্শন রিলিজ করা হয়। বহুল ব্যবহৃত Windows এর অত্যন্ত উন্নত সংস্করণ Windows 98 বাজারজাত করা হয় ১৯৯৮ সালের জুন মাসে। 

২০০৩ সালে মাইক্রোসফট কোম্পানি Windows এর সার্ভার ভার্শন Windows Server 2003 চালু করে। Windows অপারেটিং সিস্টেম অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি। এর মাধ্যমে অতি সহজে E-mail, Voice Mail এবং Fax Transmission এর কাজ করা যায়। 

Windows NT এবং Windows Server বিশেষ করে নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে Windows অপারেটিং সিস্টেম এর শেষ ভার্শন Windows 10 ও Windows 11 ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 


Windows অপারেটিং সিস্টেম এর বৈশিষ্ট্যসমূহঃ 

১। Windows একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি অপারেটিং সিস্টেম। 

২। এটি ৩২ বিট ও ৬৪ বিট মাইক্রোপ্রসেসর এর সাথে Compatible. 

৩। Windows হলো GUI - Graphical User Interface ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম তাই এখানে কমান্ড মুখস্ত করার কোনো প্রয়োজন পড়েনা। 

৪। Windows NT, Windows Server অপারেটিং সিস্টেম NOS - Network Operating System হিসেবে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 

৫। Windows হলো Multiuser, Multiprocessing, Multithreading, Multitasking অপারেটিং সিস্টেম। 

৬। Windows অপারেটিং সিস্টেম Personal Computer, Work Station এবং সার্ভারে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর গতি বৃদ্ধি ও মেমোরি ম্যানেজমেন্ট এর উন্নতি অনেক সাধন করা হয়েছে।


Unix অপারেটিং সিস্টেমঃ 

Unix হলো Multiuser, Multiprocessing, Multitasking এবং Multithreading অপারেটিং সিস্টেম যা ১৯৬৯ সালে Ken Thompson এবং Dennis Ritchie AT&T এর বেল Laboratory তে DEC PDP-7 নামক মিনি কম্পিউটারের প্রথম ভার্শন বের করেন। 

Unix অপারেটিং সিস্টেম এর প্রথম ভার্শনটি ছিল Single User দের জন্য। বর্তমানে Local Area Network, Wide Area Network তথা Internet Server এ Unix বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। মূলত ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে Unix এর প্রথম বাজারে আসে। 

১৯৬৯ সালে Unix ডেভেলপ করা হয় মাত্র। Unix এর প্রথম ভার্শনটির বেশিরভাগ মডিউল Assembly ভাষায় লিখা হয়েছিল, কিন্তু মডিউল লেখা হয়েছিল B-Language এ। Y প্রথম ভার্শন এ মোটামুটি ৬০ টির মতো কমান্ড ছিল যেমনঃ Cat, chdir, chmod, chown, cp, Is, mv ইত্যাদি। 


Unix অপারেটিং সিস্টেম এর বৈশিষ্ট্যঃ 

১। Unix অপারেটিং সিস্টেম অনেক Powerful বলে এটি ইউজারদের সাথে সহজেই ইন্টারফেস তৈরি করতে পারে এবং ইউজারদের সকল ধরনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়। 

২। Unix, High-level-language C তে লেখা বলে এটি Super, Mainframe, Mini ও Micro-computer এ ব্যবহার করা যায় এবং একটি হতে অপরটিতে সহজে স্থানান্তর করা যায়। 

৩। একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী Unix অপারেটিং সিস্টেম এ কাজ করতে পারে এবং প্রত্যেক ব্যবহারকারী একসাথে একাধিক প্রসেসকে নির্বাহ করতে পারে। 

৪। Unix অপারেটিং সিস্টেম যেকোনো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর Interpreter বা Compiler সাপোর্ট করে। 

৫। Unix এ ডাটা এর নিরাপত্তা অনেক বেশি বিধায় গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব। 

৬। বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে Unix এর ব্যপক ব্যবহার রয়েছে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post